স্মৃতির ব্যাটে পাকিস্তানের স্বপ্নভঙ্গ ৬৪ রানের বড় জয় ভারতের

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করল ভারত। রেকর্ড পরিমাণ দর্শকপূর্ণ গ্যালারিতে উত্তাপ ছড়ানো এই ম্যাচে শুরুর দিকে পাকিস্তান আধিপত্য বিস্তার করলেও, শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হয়েছে ভারতীয় শিবিরে। স্কোরবোর্ডে ৬৪ রানের ব্যবধান বড় মনে হলেও, ম্যাচের একটি বড় অংশে পাকিস্তান দারুণভাবে লড়াইয়ে টিকে ছিল। তবে স্মৃতি মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং পরবর্তীতে রিচা ঘোষের শেষের ঝড়ে ভারত নির্ধারিত ওভারে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে, যা তাড়া করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান।
ম্যাচের প্রথম ৯ ওভার পর্যন্ত পাকিস্তান বোলাররা দারুণ শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিলেন। তাসমিয়া রুবাব এবং স্পিন ত্রয়ী নাসরা সান্ধু, রামিন শামিম ও সাদিয়া ইকবাল ভারতীয় ব্যাটারদের বেশ চাপে রেখেছিলেন। শেফালি ভার্মা ও জেমিমাহ রদ্রিগেস দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউর সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু রান রেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন স্মৃতি মান্ধানা। রুবাবের বলে লং অফের ওপর দিয়ে মারা তার ছক্কাটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সেই একটি শটই পাকিস্তানি বোলারদের পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেয় এবং মাঠজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মান্ধানার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুযোগে ভারত মাত্র ৩ ওভারে তুলে নেয় ৩৯ রান, যা ম্যাচের মোমেন্টাম সম্পূর্ণ বদলে দেয়। আলিয়া রিয়াজ ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয় পাকিস্তানকে। যদিও শেষ পর্যন্ত সানার বলে মান্ধানাকে আউট করে পাকিস্তান কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রিচা ঘোষের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ভারত ১৭০ রান সংগ্রহ করে, যা পাকিস্তানি কন্ডিশনে পাহাড়সম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান পাওয়ারপ্লেতে ৫২ রান তুলে জয়ের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু এরপরই পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দিপ্তি শর্মা ও শ্রী চারণীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডট বলের চাপ বাড়তে থাকে এবং রান রেটের চাপে পাকিস্তানি ব্যাটাররা একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান পুরো লড়াইয়ে মাত্র ১৫ ওভারের মতো দাপট দেখাতে পারলেও, ভারতের বুদ্ধিমত্তার কাছে তাদের পরাজয় মেনে নিতে হয়।
পাকিস্তানের কোচ ওয়াহাব রিয়াজ স্বীকার করেছেন যে, ২০ রান বেশি দিয়ে ফেলায় ম্যাচের ফলাফল হাতছাড়া হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে নেট রান রেটের সমীকরণে এই ৬৪ রানের ব্যবধান তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দেখা দিতে পারে। ভারত হয়তো নিজেদের শতভাগ নিখুঁত খেলা উপহার দিতে পারেনি, কিন্তু চাপের মুখে টিকে থাকার মানসিকতাই তাদের টুর্নামেন্টের বড় দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।