দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা ও নাইজেরিয়ানদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা ও বর্ণবাদী হামলার জেরে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নাইজেরিয়া। আফ্রিকার এই দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় নাইজেরিয়া সরকার প্রিটোরিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে, যা বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়াঙ্কা ওদুমেনগউ-ওজুকু দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, নাইজেরীয় নাগরিকদের ওপর সহিংসতা রুখতে প্রিটোরিয়া ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও নাইজেরীয়দের হয়রানি করা হচ্ছে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করা হচ্ছে এবং শিশুদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এপ্রিলে অন্তত দুইজন নাইজেরীয় নাগরিকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এদের মধ্যে আমারামিরো ইমানুয়েলকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং একপেনিওং অ্যান্ড্রু নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তারের পর মৃত অবস্থায় মর্গে পাওয়া গেছে বলে নাইজেরিয়ার কনসাল জেনারেল নিনিকোয়া ওকে-উচে জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল নাগাদ দেশটিতে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছিলেন, যা দেশটির মোট ৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ৩.৭ শতাংশ। অনেক স্থানীয় নাগরিকের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের আধিক্য বেকারত্ব বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই দাবি কেবল একটি অজুহাত মাত্র। জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, মালাউই, ঘানা ও নাইজেরিয়ার অভিবাসীরাই মূলত এই রোষানলের শিকার হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা নতুন কিছু কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগকারী মালিকদের এখন জরিমানার পরিবর্তে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিশেষ আদালত গঠন করা হবে। একইসঙ্গে দেশের সকল মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি নতুন রেজিস্টার তৈরির কথা জানিয়েছেন তিনি। রামাফোসা জোর দিয়ে বলেন, আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্রের।
এরই মধ্যে ঘানা ও মোজাম্বিকও তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। মোজাম্বিক সরকার জানিয়েছে, সহিংসতার কারণে তাদের অন্তত পাঁচজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাইজেরিয়ার অবদানের কথা বিবেচনা করলে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে নাইজেরিয়া সরকার দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর কঠোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মতো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
