চার্লি কার্কের পোস্ট শেয়ার করে চাকরি হারানো ইন্ডিয়ানার কর্মীকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান

আমেরিকার বল স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট জিওফ্রে ম্যার্নসের বিরুদ্ধে সুজান সোয়ার্কের করা এক ফেডারেল মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউ-এর মধ্যস্থতায় এই সমঝোতার মাধ্যমে সোয়ার্ককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সোয়ার্কের আইনজীবী স্টিভি প্যাক্টর দাবি করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মতামত প্রকাশের কারণে সোয়ার্ককে চাকরিচ্যুত করা তার সাংবিধানিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। প্যাক্টরের ভাষ্যমতে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রকাশের জেরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। এই সমঝোতা মূলত বাক্‌স্বাধীনতার সেই মৌলিক অধিকারকেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্ক আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসাতে কার্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আর তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য বা মিম শেয়ার করায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে অনেক কর্মী চাকরি হারান। সোয়ার্কের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছেন জিওফ্রে ম্যার্নস। তার দাবি, সোয়ার্কের পোস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত ক্ষুব্ধ কল ও ইমেইল আসতে শুরু করে, যেখানে অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থী প্রত্যাহারের হুমকি দেন। ম্যার্নস জানান, মামলাটি দীর্ঘায়িত করলে যে পরিমাণ আইনি ব্যয় হতো, তার তুলনায় বর্তমান সমঝোতা সাশ্রয়ী।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ফ্লোরিডার একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা কার্ককে নিয়ে মিম শেয়ার করায় এক জীববিজ্ঞানীকে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়। এছাড়া জানুয়ারি মাসে টেনেসির অস্টিন পি স্টেট ইউনিভার্সিটি একজন অধ্যাপককে পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল ও ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। একইভাবে চাকরি হারানো আরও বহু কর্মীর মামলা বর্তমানে আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%