AdvertisementAdvertisement

দুর্ঘটনার মুহূর্তে সঠিক স্থানে ইউটিলিটি কর্মী, শিশু প্রাণে রক্ষা

ফিনিক্স, অ্যারিজোনা: ১৯ মার্চ, এক মর্মান্তিক ঘটনার হাত থেকে এক শিশুকে রক্ষা করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন আরিজোনা পাবলিক সার্ভিস (এপিএস) এর এক বিদ্যুৎ কর্মী। রবার্ট বাটলার নামের এই কর্মী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কপথে ছুটে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনাটি একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে তার কর্মস্থল এপিএস ভিডিওটি প্রকাশ করে।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান বাটলার। পরে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে’ উপস্থিত থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জীবনের এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়, এই ঘটনাটি তারই এক শক্তিশালী উদাহরণ।’

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএজেড-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের দুই বছর বয়সী ছেলের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাটলার। তিনি বলেন, ‘যখন আমি বাড়ি ফিরি এবং দেখি আমার ছেলে আনন্দে আমার কাছে ছুটে আসছে, তখন আমার মন ভরে যায়। এই শিশুটিও তার বাবা-মাকে ফিরে পেয়ে তেমনই আনন্দ পেতে পারে, এটাই আমার ভাবনা।’

এপিএস-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্ট মেয়ার সর্বপ্রথম শিশুটিকে একা দ্রুত রাস্তার দিকে ছুটে যেতে দেখেন। তিনি শিশুটিকে থামাতে চেষ্টা করলেও একটি বন্ধ গেট তাকে বাধা দেয়। তবে, সৌভাগ্যবশত, বাটলার তার বহনকারী ট্রাক নিয়ে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দ্রুত ট্রাক থামিয়ে শিশুদের উদ্ধার করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি যখন রাস্তায় পৌঁছাত, তার ঠিক কয়েক ফুট দূরেই একটি ট্রাক চলে যায়। আর বাটলার শিশুটিকে ধরে ফেলার কয়েক সেকেন্ড পরেই আরেকটি গাড়ি সেই পথ ধরে ছুটে আসে।

উদ্ধার হওয়া শিশুর এক স্বজন দ্রুত সেখানে এসে বাটলারের কাছে পৌঁছান এবং শিশুকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

বাটলার তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, তিনি সাধারণত ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন না। কিন্তু সেদিন তিনি সেখানে ছিলেন বলেই এই অলৌকিক ঘটনাটি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা যখন দৌড়ানো শুরু করে, তখন তাদের থামানো খুব কঠিন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি সেই মুহূর্তের ভয় বুঝতে পারি।’

এপিএস তাদের বিবৃতিতে জানায়, বাটলারের দ্রুত সিদ্ধান্ত কেবল একটি জীবন বাঁচায়নি, বরং এটি ‘একে অপরের প্রতি খেয়াল রাখার গুরুত্ব’কেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও, এজেফ্যামিলি নামক একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাটলার সকল চালককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং বৃহত্তর চিত্রটি দেখার চেষ্টা করুন।’

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%