নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার পাকিস্তান ও চীনের

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তান ও চীন কৌশলগত নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। উভয় দেশ সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার, অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই নতুন মোড় মূলত দুই দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর গভীরতা ও অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করছে।
পাকিস্তানর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেন যে, বৈশ্বিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন বন্ধ করা অপরিহার্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ বা অর্থায়ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাকিস্তানর নিরাপত্তা সহযোগিতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পাকিস্তান সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানর অভ্যন্তরে কর্মরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, চীনা নাগরিক ও প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা বিধানে একটি বিশেষ সুরক্ষা পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানর ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন চীনের প্রতিনিধি লিং। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আদান-প্রদান আরও সহজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন চীনা এই মন্ত্রী।
সীমান্ত নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রমের সমন্বয় পাকিস্তান ও চীনকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ‘সব সময়ের বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথে যৌথ অভিযাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
