পাকিস্তানে শিক্ষাসঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে, স্কুলে যাচ্ছে না আড়াই কোটির বেশি শিশু

পাকিস্তানের জাতীয় শিক্ষা জরুরি অবস্থা ঘোষণার দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও দেশটির ২৫ মিলিয়নেরও বেশি শিশু এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। সিভিল সার্ভিস একাডেমির সাম্প্রতিক এক নীতিগত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কাঠামোগত অসামঞ্জস্যই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। যদিও পাকিস্তান সরকার জাতীয় শিক্ষা কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-এর অধীনে প্রতিটি প্রদেশে পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করেছে, তবুও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের অভাব, দারিদ্র্য, দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এবং অকার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশক থেকে এই সংকট নিরসনে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারি পরিকাঠামো জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা খাতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং অগত্যা স্বল্প খরচের বেসরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস ক্যাম্পাসের পাঁচটি নীতি বিশ্লেষণকারী দলের প্রস্তুতকৃত এই প্রতিবেদনে পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তানসহ সবকটি অঞ্চলের শিক্ষা পরিস্থিতি চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংবিধানে ২৫-এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও বর্তমানে প্রায় ২৫.১ মিলিয়ন থেকে ২৬ মিলিয়ন শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাবঞ্চনার নিরিখে পাকিস্তানের অবস্থান এখন দ্বিতীয়।
গত ৮ মে ২০২৪ তারিখে ঘোষিত জাতীয় শিক্ষা জরুরি অবস্থা রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিলেও প্রাদেশিক স্তরের কাঠামোগত ভিন্নতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাঞ্জাবের বিশাল জনবহুল এলাকায় ৯.৬ মিলিয়ন থেকে ১০.৪ মিলিয়ন শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। পাঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বিভাগের ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬.৪ মিলিয়ন শিশু কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তিই হয়নি, এবং প্রায় ৩.১৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রদেশভেদে এই সমস্যার প্রকৃতি ভিন্ন। সিন্ধু প্রদেশে মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষার সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তাহীনতা, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং নারী শিক্ষকের তীব্র অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বেলুচিস্তানে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বিশাল দূরত্ব এবং অকার্যকর বিদ্যালয়গুলোর কারণে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ফেডারেল অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হলেও অভ্যন্তরীণ বৈষম্য সেখানেও বিদ্যমান।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ