Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ার প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ব উপকূলের জলসীমায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে দেশটির ওনসান এলাকা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে গিয়ে পড়ে। রয়টার্স ও এএফপি’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এটি পিয়ংইয়ংয়ের ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

জাপান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পতিত হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কার্যালয় জরুরি বৈঠকে বসে পিয়ংইয়ংয়ের এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল ও ওয়াশিংটনের দাবি, আগামী ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া মূলত আত্মরক্ষামূলক এবং এটি উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে সাজানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের মহড়া হিসেবে গণ্য করে আসছে। কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং কখনো এই ধরনের মহড়াকে বিনা প্রতিক্রিয়ায় ছেড়ে দেয় না। বিশ্লেষকদের মতে, মহড়ার ঠিক আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়া আসলে তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও সিউলকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মস্কো জাপোরিঝিয়ায় হামলা চালাতে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা পিয়ংইয়ং তাদের নিজস্ব অস্ত্র কর্মসূচিতে কাজে লাগাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধারাবাহিক এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উচ্চাভিলাষের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিন বলেন, এই পরীক্ষাগুলো কেবল অস্ত্র উন্নয়নের অংশ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সিউল ও টোকিও জানিয়েছে, যেকোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা যৌথভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%