মমতার নেতৃত্বের সমালোচনা করে সরব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্দরের টানাপোড়েন চরমে

কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের সভা শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে উঠেছে। মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়া নিয়ে ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা ঘিরে এই নতুন রাজনৈতিক জটিলতার সূত্রপাত হয়। দলের অন্দরের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে তিনি দলনেত্রীর প্রতি নিজের ক্ষোভ ও দলের বর্তমান কর্মপন্থা নিয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে, যখন তৃণমূলের মঞ্চে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেছিলেন এবং ঘড়ির কাঁটায় ১টা ১৫ মিনিটে নেত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদের জেরে মঞ্চ ত্যাগ করেন। মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর তিনি নেত্রীকে একটি বার্তাও পাঠিয়েছিলেন। সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ দাবি করেন, নেত্রীর কানের কাছে কেউ ভুল তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে যে তিনি এক ঘণ্টা ধরে বক্তব্য রেখেছেন, যা তিনি কিছুতেই মেনে নেবেন না।
দল ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দলের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি নিজের হাতেই এই দলটিকে শেষ করে ফেলবেন। তাঁর মতে, দলের বর্তমান নেতৃত্বের একাংশ, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের পরামর্শে সবকিছু চললে দলের ক্ষতি অনিবার্য।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মপদ্ধতি নিয়েও এদিন তীব্র সমালোচনা করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, শুধু কালীঘাট এবং নিজের ঘর সামলালে রাজনীতি হয় না, দলের প্রয়োজনে রাজপথে নামতে হয়। তৃণমূল নেত্রীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও, কল্যাণ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নেত্রী যদি কেবলমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই আবর্তিত হন, তবে দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মীদের পক্ষে তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভরসার জায়গা হিসেবে দেখছেন, কিন্তু নেত্রীর আরও বেশি সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহের পর তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে সমীকরণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁরা তাঁর নির্দেশেই চলেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ভেতরে এই প্রকাশ্য মতভেদ ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস