বালোচিস্তানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১১ সেনাসদস্য নিহত

পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালোচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বালোচিস্তানের বেলা এলাকার ওয়ালপাটের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা অতর্কিত হামলা চালালে এক জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ অন্তত ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানিয়েছে, কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সেনাবহরটি হামলার শিকার হয়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিদ্রোহীরা রকেট ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অতর্কিত আক্রমণ চালালে সেনাবাহিনীর একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, হামলার পর বিদ্রোহীরা নিহত সেনাদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে পালিয়ে যায়। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, পাল্টা অভিযানে ১৪ জন বিএলএ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

নিহত সেনাসদস্যদের মধ্যে সুবেদার ওয়াহিদ, নায়েক সাকিব, নায়েক জাহির, সিপাহী সাজ্জাদ, ওয়াসিম আখতার, শাকুর, ওয়াকার নুর, উসমান, ল্যান্স নায়েক কুরবান, বশারত এবং বিলাল রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের তালিকা প্রকাশ করেনি। চলতি সপ্তাহে বালোচিস্তানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহতের সংখ্যা ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, বিভিন্ন পাল্টা অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৫৪ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে জড়িত বহু জঙ্গি আফগানিস্তানের নাগরিক। তবে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং সীমান্ত সন্ত্রাস যেভাবে বাড়ছে, তাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব দেশটির অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর ওপর পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%