আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

রোমাঞ্চকর লড়াই, একাধিক পেনাল্টি, লাল কার্ড এবং গোলবন্যা—সব মিলিয়ে এক ঘটনাবহুল ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাল ইংল্যান্ড। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও হ্যারি কেনের দল দুর্দান্ত দৃঢ়তায় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো আয়োজক দেশ মেক্সিকোকে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শুরুর আগেই ইংল্যান্ডকে লড়তে হয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়ামের কন্ডিশনের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হয়। প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের উত্তাল গর্জন আর স্বাগতিকদের চাপের মুখেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ‘থ্রি লায়ন্স’রা।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ হেডে লিড নেয় ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি কেনের তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করার ৩৮ সেকেন্ড পরেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহ্যাম। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার চার মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান কমান মেক্সিকোর জুলিয়ান কুইনোনেস। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে স্বাগতিকরা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের দুর্দান্ত দক্ষতায় ইংল্যান্ড এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কুয়ানশা। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় রক্ষণভাগে চাপ বাড়ে ইংল্যান্ডের, তবে ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হ্যারি কেন। কিন্তু নাটকের শেষ তখনও ছিল বাকি। ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউল করে বসেন কেন এবং সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান রাউল জিমেনেজ।

বিজ্ঞাপন

শেষ ২০ মিনিটে মেক্সিকো সর্বাত্মক আক্রমণ চালালেও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক পিকফোর্ডের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। কোচ টমাস তুখেলের সঠিক সময়ে খেলোয়াড় পরিবর্তন এবং রক্ষণাত্মক কৌশলে ভর করেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে এখন নরওয়ের মুখোমুখি হতে হবে ইংলিশদের, যারা আগের রাউন্ডে ব্রাজিলকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের বড় চমক উপহার দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%