পাকিস্তানে দুই বিদেশি তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: অভিযুক্ত উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি

পাকিস্তানে দুই বিদেশি তরুণীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া চাঞ্চল্যকর মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রজা দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের বিরোধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লাহোরের এক বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভুক্তভোগী অ্যাস্ট্রিড গ্যাব্রিয়েলা রবিনসন ব্রাচোর গোপন জবানবন্দি রেকর্ডের পর মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জবানবন্দিতে অ্যাস্ট্রিড জানান, ব্যবসায়িক কাজে পাকিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই লাহোরে তাঁদের আবাসস্থলে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায় অপরাধীরা। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দুকের মুখে তাঁকে ও তাঁর বন্ধু স্টেফানি অ্যাড্রিয়ানাকে জিম্মি করা হয় এবং এক পর্যায়ে তাঁকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত রজা দার ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালান। পরে স্টেফানির মা ১ লক্ষ মার্কিন ডলার প্রদান করলে অপরাধীরা তাঁদের পাসপোর্ট ফেরত দেয় এবং বিমানবন্দর অভিমুখে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু মাঝপথে একটি ফোনালাপে ‘বসের ভিন্ন নির্দেশ’ আসার বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এরপর যাত্রাপথে গাড়ির দুর্ঘটনার সুযোগ নিয়ে তরুণীরা পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় জনতা ও ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় প্রাণ বাঁচান।

এই ঘটনায় রজা দার ছাড়াও হাসান রাজা, সিকান্দার খান ও সাজিদ আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লাহোরের একটি আদালত ধৃত চারজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। যদিও ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মুক্তিপণের টাকা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আগামী ৮ জুলাই তাঁদের পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিচারবিভাগীয় জবানবন্দি দেওয়ার পরই ভুক্তভোগী দুই তরুণী পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ভুক্তভোগীরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও জটিল হতে পারে। মামলার তদন্তকারীদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পে কাজ করার সময় রজা দারের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিচয় হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গত ২৯ জুন লাহোরে তাঁদের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%