রাজ্যের বাজেটে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ও বিধায়কদের তহবিল বাড়ালেন স্বপন দাশগুপ্ত

ভারতর প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে একগুচ্ছ জনমোহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি বিধায়কদের উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত দাবি মেনে ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। এই দুই সিদ্ধান্ত বাজেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাজেট অনুযায়ী, রাজ্যের বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি বিধায়ক এখন থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের সংস্কারে আগের চেয়ে ৩০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ পাবেন। সরকারের ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপ প্রত্যন্ত ও শহরাঞ্চলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করবে এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগ লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাটি ছিল সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নতুন হার কার্যকর হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পেয়ে থাকেন। এই নতুন ঘোষণার ফলে মহার্ঘভাতার হার একলাফে ৪২ শতাংশে উন্নীত হবে, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্যের ব্যবধান অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মহার্ঘভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল, তা নিরসনে এটি সরকারের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির এই ঘোষণায় সরকারি মহলে স্বস্তির হাওয়া বইলেও, কর্মচারী সংগঠনগুলোর একাংশ বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটানোর দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সমতা বিধানের এখনো কিছুটা পথ বাকি। তবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই এমন বড় মাপের মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাটিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%