পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ১৯ দিনের গণবিক্ষোভ ও খাদ্য অবরোধে তীব্র উত্তেজনা

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ভূমিকা রাখার দাবি করলেও, খোদ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে অঞ্চলে দীর্ঘ ১৯ দিন ধরে জ্বলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুন। সিএনএন-নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কার্যত অঘোষিত খাদ্য অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো জনপদ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির যখন সুইৎজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন, তখন নিজ ভূখণ্ডে বিদ্রোহী দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান প্রশাসন। এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জ্যাক-এর নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার ও সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে।

সংগঠনটির নেতাদের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে এ পর্যন্ত ১,৪৩৫ জনেরও বেশি মানুষ হয় আটক হয়েছেন, নয়তো নিখোঁজ রয়েছেন। সামরিক চাপের মুখেও নতি স্বীকার না করে জ্যাক নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল স্থানীয় বিধানসভার নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতার মধ্য দিয়ে।

রয়টার্সের তথ্য মতে, চলমান এই সংঘাতের জেরে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৯৭ জন। এছাড়া পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সের সাম্প্রতিক কঠোর বার্তা ইসলামাবাদকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি অস্বস্তিতে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%