অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু রহস্যের তদন্তভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত করল রাজ্য সরকার

টলিউডের জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে সৃষ্ট রহস্যের জট খুলতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন এই অভিনেতার মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রায় আড়াই মাস পর, ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের বিশেষায়িত তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে ন্যস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অভিনেতা পরিবারের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ মার্চ ‘ভোলেনাথ পার করেগা’ নামক একটি বাংলা মেগা ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য তালসারিতে গিয়ে প্রাণ হারান ৪২ বছর বয়সী এই শিল্পী। শুটিংয়ের সময় একটি ড্রোন শটের প্রয়োজনে সমুদ্রে নামলে বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে তিনি তলিয়ে যান। যদিও স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন, কিন্তু ঘটনার সময় শুটিং ইউনিটের সদস্যদের অসংলগ্ন বক্তব্য এবং নিরাপত্তা বিধির চরম অবহেলা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মৃতের স্বজনরা। তালসারি উপকূলীয় পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ওই শুটিংয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকার ফলে শ্বাসরোধজনিত কারণে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর ফুসফুস ও খাদ্যনালীতে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক বালি ও নোনা জল পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার ভিত্তিতেই সরকার এখন সিআইডি তদন্তের পথে হাঁটছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এক প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ওড়িশা সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিআইটির পাশাপাশি এখন রাজ্যের সিআইডিও ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করবে।

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া শূন্যতা আজও টলিপাড়ায় অনুভূত হয়। অভিনয়ের বাইরেও নিজের বুদ্ধিদীপ্ত পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-এর জন্য তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং একমাত্র সন্তান সহজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ইন্ডাস্ট্রি ও ভক্তরা সমবেদনা জানালেও, ঘটনার দিন শুটিংয়ে উপস্থিত থাকা সহ-শিল্পী শ্বেতা মিশ্রের রহস্যজনক নীরবতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাঁর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিয়ে জনমনে তীব্র কৌতূহল রয়ে গেছে। সিআইডির এই তদন্তই এখন প্রকৃত সত্য উন্মোচনের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%