নাবালককে বিয়ে করায় বিহারে তরুণীকে বাবা-মায়ের পৈশাচিক নির্যাতন তদন্তে পুলিশ

বিহারের মধেপুরা জেলায় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নাবালককে বিয়ে করার অপরাধে নিজ কন্যাকে পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে সুরক্ষামূলক হেফাজতে নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর বয়সী পূজা কুমারী মাসখানেক আগে বিট্টু কুমার নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে বিয়ে করেন। তাঁরা আত্মীয় হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী হওয়ায় এই বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রাম পঞ্চায়েত একটি সালিশি সভার আয়োজন করে, যেখানে দম্পতিকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ছেলের পরিবারের ওপর ১ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তের পরপরই গত ৮ জুন তরুণীর মা-বাবা তাঁকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, গৃহবন্দী অবস্থায় তরুণীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাঁর মা অমানবিক নির্যাতন করছেন এবং বাবা তাঁর গলায় পা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করছেন। অমানবিক এই দৃশ্যের সময় স্থানীয়রা উপস্থিত থাকলেও কেউ প্রতিবাদে এগিয়ে আসেনি।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শঙ্করপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব কুমার জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগীর দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতের স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস