AdvertisementAdvertisement

মরক্কোর রাজনীতিতে ফাউজি লেকজার অন্তর্ভুক্তি ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের জল্পনা

মরক্কোর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এবারের আলোচনায় দলীয় আদর্শ বা ইশতেহারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দেশটির প্রভাবশালী বাজেট মন্ত্রী এবং রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফাউজি লেকজার কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়টি। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেকজা ক্ষমতাসীন ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ বা পিএএম-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং মরক্কোর ফুটবল বিপ্লবের রূপকার হিসেবে পরিচিত লেকজার এই সিদ্ধান্তকে কেবল সাধারণ কোনো দলবদল হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। আগাদির ইবন জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষক মোস্তফা আহদার মনে করেন, নির্বাচনের ঠিক তিন মাস আগে একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক পদক্ষেপে কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক দলে যোগদানের অধিকার থাকলেও, একই সঙ্গে ফুটবল ফেডারেশন ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকের মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া কঠিন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লেজকার এই রাজনৈতিক অভিযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি। স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বৈশ্বিক আসরের জন্য অবকাঠামো, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মরক্কো। ফলে আগামী সরকারকে বিশ্লেষকরা ‘বিশ্বকাপ সরকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে কেবল অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার সক্ষমতাই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।

মরক্কোর রাজনৈতিক বিবর্তনে লেকজার উত্থান বর্তমান সময়ের এক বিশেষ ধারার প্রতিফলন, যেখানে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থেকেও প্রশাসনিক দক্ষতা ও জাতীয় সাফল্যের প্রতীক হয়ে ওঠা ব্যক্তিরা রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’-এর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল খেলার সাফল্য মরক্কোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং ফুটবলকে জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রতীকে পরিণত করেছে। তবে গবেষক মোস্তফা আহদারের সতর্কবার্তা হলো, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে, তবে প্রথাগত নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দলগুলো তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের সংবিধান অনুযায়ী মরক্কোর সংসদীয় ক্ষমতা বাড়লেও সরকার গঠনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা এখনো কেন্দ্রীয়। নির্বাচনে আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের কারণে জোট সরকার গঠনই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই লেকজার মতো দক্ষ প্রশাসককে দলে ভিড়িয়ে পিএএম তাদের শাসনকাল নিয়ে ওঠা সমালোচনা এড়াতে এবং ‘যোগ্যতার রাজনীতি’র ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাইছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তুরিয়া গুয়েরাউইয়ের মতে, ফুটবলের ময়দানে লেকজার দেখানো দক্ষতা দেশের জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন মূল সংশয় সাধারণ ভোটারদের মনে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%