গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগে প্রতিনিধি ম্যাক মিলারের পদত্যাগ দাবি সিনেটর বার্নি মোরেনোর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ম্যাক মিলারের বিরুদ্ধে ওঠা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন সিনেটর বার্নি মোরেনো। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার প্রাক্তন জামাতা মিলার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে মোরেনো দাবি করেন, মিলারের উচিত দ্রুত পেশাদার সহায়তা গ্রহণ করা।
সিনেটর মোরেনোর মেয়ে এমিলি মোরেনোর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই প্রভাবশালী রাজনীতিক এতদিন বিষয়টিতে নীরব ছিলেন। তবে এমিলির অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের সম্পর্কে থাকাকালীন মিলার তাকে মারধর, হুমকি প্রদান এবং ফুটন্ত পানি ছুড়ে মারার মতো বর্বরোচিত আচরণ করেছেন। গত বছর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হলেও বর্তমানে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।
মাদার জোন্স ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি তাদের দুই বছরের কন্যাশিশুর হাড় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা নতুন রূপ নিয়েছে। এমিলি মোরেনো অভিযোগ করেছেন, মিলারের সহিংস আচরণের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও মিলারের মুখপাত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, কুয়াহোগা কাউন্টি শিশু ও পরিবার সেবা বিভাগ এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণ করেছে। উল্টো মানহানির অভিযোগে এমিলির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন মিলার।
নিজের আচরণের সমালোচনা সত্ত্বেও ম্যাক মিলার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এমিলির মুখপাত্র স্টেফান মাইকালিউ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য মিলার তার প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নিগ্রহের আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মিলারের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারাও মিলারের পদত্যাগ দাবি করে তার বিরুদ্ধে নৈতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ম্যাক মিলার এর আগেও ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা এখন এই বিতর্কিত ইস্যুটিকে পুঁজি করে আসনটি পুনরুদ্ধারের কৌশল অবলম্বন করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
