যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে কোণঠাসা বলসোনারো পরিবার লুলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির আশঙ্কা

ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির অর্থনীতি যখন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার চাপে জর্জরিত, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বলসোনারো পরিবারের কৌশলগত সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর পুত্র এবং লিবারেল পার্টির নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো। বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারো।
জনমত জরিপ সংস্থা কুয়েস্টের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে লুলা ৪৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর ৩৭ শতাংশের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। লুলার রাজনৈতিক প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপকে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বলসোনারো পরিবারের এই সংকট তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিল তাদের রাষ্ট্রীয় পিক্স পেমেন্ট সিস্টেমের প্রতি অন্যায্য পক্ষপাত দেখাচ্ছে এবং বন উজাড় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই শুল্ক আরোপের ফলে ব্রাজিলের উৎপাদন ও কৃষি খাত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যারা অতীতে বলসোনারোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল।
এদিকে জায়ার বলসোনারোর সাজা ও নির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্রের মামলার পেছনে মার্কিন প্রশাসনের ইন্ধন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলসোনারোর তৃতীয় পুত্র এদুয়ার্দো বলসোনারো বাবার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে তদবির চালাতে গিয়ে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যা পরিবারটির ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকার (ডব্লিউওএলএ) জিমেনা সানচেজ জানান, বলসোনারো শিবিরের লবিং কার্যক্রম কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ফ্লাভিও বলসোনারোর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্রাজিলের দুটি অপরাধী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তবে এতে সাধারণ ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্যাট্রিসিও নাভিয়ার মতে, ডানপন্থী ভোটাররাও এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই অযাচিত হস্তক্ষেপ ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে বলসোনারো পরিবার এখন নিজেদের দেশের জনগণের সমর্থন হারাচ্ছে। চীনের মতো বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে ব্রাজিল এখন এমন এক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ওয়াশিংটনের নীতি শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি লুলার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা