মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী পেরুর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিউমোরি

পেরুর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিউমোরি মেক্সিকোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত নভেম্বর মাস থেকে দেশ দুটির মধ্যকার এই টানাপোড়েন শুরু হয়, যখন মেক্সিকো পেরুর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বেটসি চাভেজকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কেইকো ফুজিউমোরি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
পেরুর সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর শাসনামলকে কেন্দ্র করেই মূলত মেক্সিকোর সঙ্গে পেরুর সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ২০২১ সালে নির্বাচনের পর থেকেই কাস্তিয়োর সঙ্গে পেরুর ডানপন্থী কংগ্রেসের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর অভিশংসন এড়াতে কাস্তিয়ো কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী ও মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে কাস্তিয়ো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে তিনি ১১ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
মেক্সিকো শুরু থেকেই পেদ্রো কাস্তিয়োকে রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। কাস্তিয়োর পতনের পর তার পরিবারের সদস্যদের এবং পরবর্তী সময়ে বেটসি চাভেজকে মেক্সিকো আশ্রয় দিলে পেরু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পেরু সরকারের অভিযোগ, মেক্সিকো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পেরু মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
বেইসির ভাষ্যমতে, মেক্সিকো আন্তর্জাতিক আইন ও আশ্রয় প্রদানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের ভিত্তিতেই এই অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে কেইকো ফুজিউমোরির এই নমনীয় মনোভাবের জবাবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এখনো সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আগে তারা আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান।
উল্লেখ্য, কেইকো ফুজিউমোরি পেরুর সাবেক শক্তিশালী নেতা আলবার্তো ফুজিউমোরির কন্যা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এবছর চতুর্থবারের চেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। আগামী ২৮ জুলাই পেরুর স্বাধীনতা দিবসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ফুজিউমোরির এই উদ্যোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তবে কাস্তিয়ো সংক্রান্ত মতপার্থক্য নিরসনে উভয় পক্ষকে আরও বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা