স্পেনের আন্দালুসিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ অনেকে

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালারদোস পৌরসভার এন-৩৪০ মহাসড়কের নিকটবর্তী এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রবল বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী বেদার পৌরসভায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ানমা মোরেনো জানিয়েছেন, এখনো অন্তত ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে জরুরি সেবা বাহিনী। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম এলাকা থেকে পালানোর সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরেই আটকা পড়ে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ও ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবামন্ত্রী আন্তোনিও সানজ এই পরিস্থিতিকে একটি অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গোটা অঞ্চল বর্তমানে শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন। প্রায় ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাকে একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ধারণা, বৈদ্যুতিক লাইন ছিঁড়ে শুকনো ঝোপঝাড়ে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর ১৫০ জন বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ৩০০ জনের একটি দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ প্রধান দুটি মহাসড়ক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং জরুরি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, চলতি বছর ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ। শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রলম্বিত তাপপ্রবাহের ফলে মহাদেশটির বনাঞ্চলগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%