ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফোলারিন ব্যালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ফিফায় তদন্তের দাবি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের ওপর থেকে ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল সদস্য এই সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক চাপের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।

বিজ্ঞাপন

গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কিন দলের শীর্ষ গোলদাতা ফোলারিন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জেরে ফিফা প্রধানের টেলিফোন আলাপের পরপরই রহস্যজনকভাবে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আধুনিক ইতিহাসে লাল কার্ড পাওয়ার পরও কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফিফা প্রধানের কাছে লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য চাপ প্রয়োগ করেননি, বরং সেরা খেলোয়াড়দের মাঠে দেখার তাগিদ দিয়েছিলেন মাত্র। পরবর্তীতে অবশ্য বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুস, লারা ওলটার্স এবং নিলস ফুগলস্যাং এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টিকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও চরম অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিয়ম পরিবর্তন করে ফিফা আবারও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে ৩৫ জন আইনপ্রণেতা এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলাপ হলেও তিনি কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি। তার ভাষ্যমতে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি ফিফার স্বাধীন বিচারিক প্যানেলের ওপর ন্যস্ত ছিল এবং তিনি বরাবরই নিয়ম মেনে চলার পক্ষপাতি। তবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা এবং গত বছর তাকে বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%