ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ধারাবাহিক ও অহেতুক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় কঠোর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বুধবার রাতে ইরানের ওপর তীব্র সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তেহরানের দীর্ঘসূত্রতা ও চুক্তির আলোচনায় গড়িমসির চড়া মূল্য দিতে হবে। অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপারের সঙ্গে আলোচনার পর হেগসেথ স্পষ্ট করেন যে, আজকের হামলা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রয়োজনে এই অভিযানের ধারাবাহিকতা আগামীকালও বজায় থাকবে।
গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যে হামলা শুরু করেছিল, তা মূলত তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধের দোহাই দিয়ে শুরু হয়েছিল। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অসংলগ্ন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে নানা সংশয়ের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেন্টকম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আত্মরক্ষামূলক বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পূর্বে আগাম হামলার যে যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন, তা নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। তবে হেগসেথের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই তেহরানকে চাপে রাখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা