আফগানিস্তানের সীমান্ত প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত

আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। মঙ্গলবার গভীর রাতে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় শিশুসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তালেবান সরকার। আফগান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও ১৪ জন নারী ও শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেশী পাক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় আরেকটি পৃথক বিমান হামলায় নিহত হন আরও তিনজন, যাদের সবাই শিশু বলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে অমানবিক অপরাধ ও আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই হামলার ঠিক একদিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সন্দেহভাজন যোদ্ধারা হামলা চালায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে পাকিস্তানের ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ছয় সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে টিটিপি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি করে আসছে।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি-সহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের ভূখণ্ডে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আফগান প্রশাসন বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সীমান্ত সংঘাতের জেরে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯৭ জন। মার্চ মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও উভয় পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তোলায় বর্তমানে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের এই সংঘাতময় সম্পর্ক পুরো অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%