বাহরাইন সরকার ইরানের প্রতি সহানুভূতি এবং "বিদেশী সংস্থার সাথে যোগসাজশের" অভিযোগে ৬৯ জন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে, যাকে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি "ক্ষমতার চরম অপব্যবহার" বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর তেহরান যখন বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সোমবার বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে, যেখানে কিছু ব্যক্তির পারিবারিক সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে।
লন্ডন-ভিত্তিক বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি এই পদক্ষেপকে "বিপজ্জনক" এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং তারা গ্রেফতার হয়েছেন কিনা, বাহরাইনের অভ্যন্তরে নাকি বাইরে রয়েছেন, অথবা তাদের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব আছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাহরাইনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি দেশের ক্ষতিসাধন করেন বা আনুগত্যহীনতার প্রমাণ দেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যেতে পারে। রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা কর্তৃক জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, এই ৬৯ জন ব্যক্তির সবাই "অ-বাহরাইনি বংশোদ্ভূত"।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পরপরই গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি তেহরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো শুরু করে। ইরান অভিযোগ করেছিল যে, এই দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড থেকে হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে জানা গেছে, যার মধ্যে বাহরাইনের একটি নৌঘাঁটিও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৯ই এপ্রিল ইরান উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা বন্ধ করে। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের জন্য তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনের শিয়া জনগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের প্রান্তিককরণের অভিযোগ করে আসছে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বাহরাইন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।