ঈদের দিনেও গাজায় ইসরায়েলি তাণ্ডব ও দখলদারিত্বের বিস্তার অব্যাহত

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন মুহূর্তগুলোও ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা এবং যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২৭ মে থেকে ৩০ মে—ঈদের এই চার দিনে অন্তত ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে গাজা সিটির শওয়া স্কয়ারে ড্রোন হামলায় নিহত আহমাদ আলি হেলেস এবং দেইর আল-বালাহর আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ইয়াফা হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান ডা. জামাল আবু আওন রয়েছেন। পশ্চিম তীরের জেনিনে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং দেয়ালগুলোতে অবমাননাকর গ্রাফিতি অঙ্কন করেছে। এছাড়া আল-আকসা মসজিদে আসা নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং কবর জিয়ারত করতে যাওয়া শোকার্ত পরিবারগুলোর ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বার্ষিক কালো তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং দেশটির কারাগার কর্তৃপক্ষের নাম যুক্ত করা হয়েছে। যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ত্রাণকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংস হামলা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ অপরাধ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় দখলদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর ফুটেজে তাকে গাজার নিয়ন্ত্রণ ৬০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানি গাজার স্থায়ী বিভক্তির বিরোধিতা করেছে এবং হামাস একে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে গাজায় হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা অঞ্চলটিতে পুরোদমে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের জেনারেটর বিকল হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৪১ ছাড়িয়েছে। পশ্চিম তীরেও বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে; নাবলুসের মাদামায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং বহু ফিলিস্তিনি পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। জর্ডান ভ্যালিসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশি ও কারফিউ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা