সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য বা বার্তা দেয়নি। তবে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ের অনুলিপি চেয়ে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলেই পুরো ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ওই চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার নথিপত্র এবং আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেও এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও তথ্য তলব করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নিহত প্রবাসী শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে প্রাণ হারানো মোট ১১ বাংলাদেশির মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া প্রবাসীদের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধের কারণে যারা নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সরকার। একইসঙ্গে যারা মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় ফিরতে পারবেন না, তাদের দেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়েও রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশির আইনি সহায়তা ও মুক্তির বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।