ফার্মগেট কেলেঙ্কারি: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের তোড়জোড়

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে ঘিরে দানা বাঁধা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির তদন্তে আগামী সপ্তাহে প্রথম বৈঠকে বসছে দেশটির পার্লামেন্টারি ইমপিচমেন্ট কমিটি। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্টর নিজস্ব খামারবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় উদ্ভূত এই বিতর্কিত পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাংবিধানিক আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় সচল হওয়ায় ক্ষমতাসীন এএনসি দলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) দলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সোমবার ৩১ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। কমিটির প্রথম দায়িত্ব হবে একজন সভাপতি নির্বাচন করা। এ বিষয়ে ডিএর পার্লামেন্টারি নেতা জর্জ মিকালকিস স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিটির নেতৃত্ব কোনোভাবেই এএনসি দলের কারো হাতে থাকা উচিত নয়।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে খামারবাড়ির আসবাবপত্রের ভেতর বিশাল অঙ্কের নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এই অর্থের উৎস কী এবং কেন তা গোপনে রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইতিমধ্যে রামাফোসা আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি একটি স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের আইনি দল এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আইনি চ্যালেঞ্জ চলমান থাকা অবস্থায় তদন্ত কার্যক্রম বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।
দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এএনসি দলের আসন সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ। ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হওয়ায় সরাসরি পদচ্যুতির ভয় থেকে আপাতত মুক্ত রামাফোসা। তবে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে এএনসির আসন মাত্র ৯টি। ফলে বিরোধী দলগুলো তদন্তের মোড় ঘোরানোর পূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
