যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আহ্বানে সারা বিশ্বের ৬৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা ‘বামপন্থী রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলার নতুন কৌশলে ঐক্যবদ্ধ হতে বৈঠকে বসছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী মনোযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে উপেক্ষিত এই ‘নতুন হুমকি’ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, বিশ্বব্যাপী বামপন্থী উগ্রপন্থা একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা এতদিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নতুন কৌশলে তিনটি প্রধান হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে—ইসলামপন্থি সন্ত্রাসবাদ, মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অরাজকতাবাদী ও ফ্যাসিবাদবিরোধীসহ বামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠী। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই নতুন কৌশলটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বৈধ প্রতিবাদ কর্মসূচিকে দমনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের এই নতুন সংজ্ঞা প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিবর্তে ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই নতুন কৌশলে চরম ডানপন্থী বা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর নাম বর্জন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। দি হেগ-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টার-টেররিজমের পরিচালক টমাস রেনার্ড আল-জাজিরাকে বলেছেন, মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি এখন সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে যেসব উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতো, বর্তমান কৌশলে তাদের উল্লেখ না থাকায় মার্কিন নীতিতে এক গভীর অন্ধকারের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিত রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদে ডানপন্থী উগ্রবাদীদের দায় ৪৫ শতাংশ, যেখানে বামপন্থীদের দায় ১৬ শতাংশ। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসন বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন জোরদার করছে এবং গত নভেম্বর মাসে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ইউরোপের অনেক দেশ এই সম্মেলনের বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নয় বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখতে তারা সম্মেলনে যোগ দিলেও, প্রতিনিধি হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের পাঠাচ্ছে।
সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে উগ্র বামপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও, গত ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার মতো ভয়াবহ ডানপন্থী সহিংসতার প্রসঙ্গটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে এমন অনেক ঘটনার সাথে জড়িতদের সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ছিল। এই বৈপরীত্য বিশ্বজুড়ে মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।