উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতির আবহে পিয়ংইয়ংয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

চীনের চতুর্থ সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ওয়াং হুনিন পিয়ংইয়ং সফরে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর বরাতে জানানো হয়েছে, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্রতার সম্পর্ক আরও সুসংহত করতেই এই সফর আয়োজন করা হয়েছে।

গত জুন মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরের ধারাবাহিকতায় এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সে সময় শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক ‘সুদূরপ্রসারী নীল নকশা’ প্রণয়ন করেছিলেন, যা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ওয়াং হুনিন।

বুধবার পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছানোর পর ওয়াং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা জো ইয়ং ওনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে দুই দেশের ক্ষমতাসীন দলের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বন্ধুত্বের নতুন মাত্রা উন্মোচনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের সৈন্য মোতায়েনের বিষয়টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেও, অর্থনৈতিকভাবে চীনই এখনো উত্তর কোরিয়ার প্রধানতম সহযোগী দেশ। বেইজিং চায় কোরিয় উপদ্বীপে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে। অন্যদিকে, পিয়ংইয়ং তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চীনের বিশাল বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ মূলত উত্তর কোরিয়ার ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব বলয় অটুট রাখার একটি সুকৌশলী প্রচেষ্টা। সামরিক ও কূটনৈতিক নানা জটিল সমীকরণের মধ্যেও চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%