জেফ্রি এপস্টাইন মামলা নিয়ে নিউ মেক্সিকো ও মার্কিন বিচার বিভাগের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও নথিপত্র প্রকাশে বাধা

নিউ মেক্সিকোর জোরো র‍্যাঞ্চে সংঘটিত যৌন নির্যাতন ও মানব পাচারের ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। কনভিকটেড যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান এই তদন্তের স্বার্থে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ অনেকদিন ধরেই এই নথিপত্রগুলোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেডারেল আইন, আদালতের নির্দেশ এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এই নথিগুলো প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টরেজ সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। তার দাবি, নথিপত্র পাওয়ার জন্য তার কার্যালয় গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। টরেজ সতর্ক করে বলেছেন, বিচার বিভাগ যে হারে অসহযোগিতা করছে, তাতে করে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তার মতে, কালক্ষেপণের ফলে সাক্ষীরা হারিয়ে যাচ্ছে, ঘটনার স্মৃতি ধূসর হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে শহরের দক্ষিণে অবস্থিত জেফরি এপস্টাইনের বিশাল সম্পত্তি ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৩ সাল থেকে এপস্টাইনের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই খামারে নারী ও কিশোরীদের পাচার করে যৌন নির্যাতন চালানো হতো। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিপত্রে যৌন নিপীড়নের ভিডিও এবং দুইজন বিদেশি কিশোরীকে সেখানে কবর দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মতো ভুক্তভোগীরাও এই র‍্যাঞ্চে সংঘটিত ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছিলেন, যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আজও সম্পন্ন হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিচার বিভাগ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নিউ মেক্সিকোর দাবির কাছে নতি স্বীকার করা মানে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করা। এদিকে, সমালোচকরা বলছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার বলয়ে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করার লক্ষ্যেই হয়তো এই নথিপত্রে মাত্রাতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে থাকাকালীন আত্মহত্যা করেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। তবে তার মৃত্যুর পরও এই স্ক্যান্ডাল ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমেনি। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এপস্টাইনের নথিপত্র নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। খোদ ট্রাম্প নিজেও এক সময় এপস্টাইনের পরিচিত মহলে ছিলেন, যদিও তিনি বরাবরই এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করে আসছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%