গাজামুখী মানবিক সহায়তা ফ্লোটিলা থেকে আটক দুই কর্মী মুক্তির পথে, নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি ফ্লোটিলা থেকে আটক দুই কর্মী সাইফ আবু কেশেক এবং থিয়াগো আভিলাকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যাডালাহ।
আইনজীবীদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, স্প্যানিশ-ফিলিস্তিনি নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলীয় কর্মী থিয়াগো আভিলাকে শনিবার মুক্তি দেওয়া হতে পারে। মুক্তির পর তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়ার জন্য হেফাজতে রাখা হবে।
দুজনের পক্ষে আইনি সহায়তাকারী সংস্থা অ্যাডালাহ জানায়, তারা আশা করছে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয়কেই নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে। সংস্থাটি পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই দুই কর্মী “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” নামের একটি মানবিক মিশনের অংশ হিসেবে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রিসের উপকূলের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের জাহাজটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে।
ফ্লোটিলার মোট ১৭০ জনেরও বেশি কর্মীকে আটক করার পর অধিকাংশকে পরে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ক্রিটে পাঠানো হয়। তবে আবু কেশেক ও আভিলাকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়।
আইনজীবীরা এই আটকের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষায়, এই আটক ছিল “অবৈধ বাধা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ”, যার উদ্দেশ্য গাজা অবরোধের বিরুদ্ধে মানবিক উদ্যোগকে দমন করা।
আটকের সময় দুই কর্মীর বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে সম্পর্ক” থাকার অভিযোগ আনা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে আইনজীবী পক্ষ।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যাডালাহ আরও জানায়, আটক অবস্থায় দুই কর্মীকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং তারা অনশন শুরু করেন। আবু কেশেক পানি গ্রহণও বন্ধ করে দেন বলে দাবি করা হয়।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে—মানবিক সহায়তা মিশন কি নিরাপত্তা ইস্যুর নামে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, নাকি এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ? বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা