তারাতলায় নির্মীয়মাণ ভবনের ছাদ ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। গত বুধবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে চতুর্থ দিনের মতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার অভিযানের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলোর ভাষ্যমতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কেউ আটকে আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এদিকে, উদ্ধারকাজ পরিচালনার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজের ঠিকাদার আসগার হুসেইনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লিজ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং সামস ইকবালের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং অবৈধ নির্মাণের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী সাহিল সর্দারও রয়েছেন, যিনি কেবল আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে নির্মাণস্থলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এছাড়া কাটোয়ার ২০ বছর বয়সী শ্রমিক রোহিত চৌধুরীর মৃত্যুতে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্নও ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। অবহেলার এই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।