কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবাকে আধুনিক ও গতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার আদলে হালকা ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্রাম আমদানি করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, বরং ঐতিহ্যবাহী এই গণপরিবহনকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বর্তমানে কলকাতায় মাত্র দুটি রুটে—এসপ্ল্যানেড থেকে শ্যামবাজার এবং এসপ্ল্যানেড থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত সীমিত আকারে ট্রাম চলাচল করছে। পরিবহণ মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডিপোতে পড়ে থাকা অনেক ট্রামই বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেগুলোর মেরামতে অত্যধিক ব্যয় সাপেক্ষ হওয়ায় নতুন ও আধুনিক ট্রাম সংগ্রহের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম পরিষেবা পুনরুজ্জীবনের জন্য নতুন রুট নিয়েও সমীক্ষা চালানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ট্রাম পরিষেবার বর্তমান অবস্থার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। ১৮৫৩ সাল থেকে কলকাতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত এই যানটিকে অবহেলায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ট্রামপ্রেমীরা। পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহন ব্যবস্থাটি কলকাতার ঐতিহ্য এবং নান্দনিকতার সঙ্গে মিশে আছে, যার পুনরুদ্ধার এখন সময়ের দাবি।
রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন নগরবাসী ও ট্রামপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। বিশেষ করে ময়দানের সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ দিয়ে এসপ্ল্যানেড থেকে খিদিরপুর রুটে ট্রাম চালুর পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। যদিও দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকতে থাকা এই পরিষেবাকে পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।