ইরানের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গত রাতটি ছিল চরম নাটকীয়তা ও স্বপ্নভঙ্গের। মিসরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণ এখন জটিল এক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের ফলাফল ছাপিয়ে এখন ইরানের ভাগ্য সম্পূর্ণ নির্ভর করছে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
ম্যাচের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় ইরান। খেলার মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় মহম্মদ সালাহর তৈরি করা আক্রমণ থেকে মাহমুদ সাবের গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দের ভুলে পাওয়া সেই গোলটি ম্যাচের প্রথমার্ধে ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলে। তবে দ্রুত ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল দলটি, কিন্তু মেহদি তারেমির নেওয়া পেনাল্টি শট মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের রুখে দিলে সমতায় ফেরার সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়।
ভাগ্যবিড়ম্বিত ইরান অবশ্য লড়াই থামায়নি। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় রামিন রেজাইয়ান দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর রক্ষণাত্মক ফুটবল আর ছোটখাটো ফাউলে ম্যাচটি অনেকক্ষণ সমান্তরাল থাকলেও যোগ করা সময়ে চূড়ান্ত নাটকীয়তা তৈরি হয়। মেহদি তারেমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর জটলা থেকে শোজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে।
কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর ভিএআর প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর মুহূর্তে ইরানের এক খেলোয়াড় মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে মিসর গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলেও, তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়া ইরানের স্বপ্ন এখন আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ড্র হওয়া, উজবেকিস্তানের পরাজয় এবং ক্রোয়েশিয়ার অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার সমীকরণের ওপর টিকে আছে।