ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক এয়ার-কুশন ভেহিকল বা হোভারক্রাফট নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। গোয়ায় আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত এই যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং দ্রুত সাড়াদানকারী ইউনিট হিসেবে এই হোভারক্রাফটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই বিশেষ যানটি এমন প্রযুক্তিতে তৈরি, যা বাতাসের কুশনের ওপর ভর করে স্থল ও জলভাগ—উভয় অঞ্চলেই সমান দক্ষতায় চলাচল করতে সক্ষম। অগভীর জল, কর্দমাক্ত এলাকা, চরাঞ্চল কিংবা উপকূলের দুর্গম স্থানেও এই হোভারক্রাফট অনায়াসে পৌঁছাতে পারে, যা উপকূলরক্ষী বাহিনীর কার্যকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কাছে এ ধরনের বহুমুখী যানের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির সফল প্রতিফলন হিসেবে এই হোভারক্রাফটটিকে দেখা হচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই যানটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় উপকূলরেখা এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুতগামী ও শক্তিশালী এই যানের সংযোজন ছিল সময়ের দাবি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ দমন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার ক্ষেত্রে উপকূলরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাহিনীটির তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই হোভারক্রাফটটি জটিল ও দুর্গম অভিযানে বাহিনীর সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিরক্ষা মহলের অভিমত, এই হোভারক্রাফট কেবল একটি নৌযান নয়, বরং এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার প্রতীক। বাহিনীর বহরে এই নতুন সংযোজন উপকূলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সামুদ্রিক সুরক্ষায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।