ভারতর সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন ঘিরে এক চরম বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরব হওয়া পরীক্ষার্থী বেদান্ত শ্রীবাস্তবের পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থী এবং কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনাটি মূলত ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার, যখন বেদান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, ১১টি প্রশ্নের উত্তরের পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করলেও তাঁর নম্বর মাত্র ২ বেড়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, পদার্থবিদ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো নম্বর বাড়েনি, কেবল গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১ করে ২ নম্বর যুক্ত হয়েছে। তাঁর এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিবিএসই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে বেদান্তের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করে। বোর্ডের দাবি, যাচাইয়ের পর ওই শিক্ষার্থীর মোট ১১ নম্বর বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে পদার্থবিদ্যায় ৯ নম্বর বেড়ে ৩৫ থেকে ৪৪ হয়েছে।
সিবিএসই-র এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বেদান্ত পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, পদার্থবিদ্যায় যে ৯ নম্বর বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, তা আদতে কোনো পুনর্মূল্যায়নের ফল নয়; বরং এটি তাঁর প্রাপ্য নম্বর, যা বোর্ডের ভুলে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর খাতার সঙ্গে অদলবদল হওয়ার কারণে আগে দেওয়া হয়নি। বেদান্তের দাবি, এটি নতুন করে কোনো সংশোধন নয়, বরং আগের ভুল স্বীকার করে নেওয়া মাত্র। এর ফলে বোর্ডের অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন বা ওএসএম পদ্ধতির ত্রুটি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরই সিবিএসই প্রথমবার ডিজিটাল বা অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করে, যা নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে বিতর্ক দানা বাঁধে। গত মে মাসে বেদান্ত যখন তাঁর পদার্থবিদ্যার খাতা বদলে যাওয়ার অভিযোগ প্রথম সামনে আনেন, তখন থেকেই তাঁকে নিয়ে তীব্র সামাজিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়। এমনকি তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে। নিজের আসল খাতার ছবি প্রকাশ্যে আনার পর থেকে তিনি এই ডিজিটাল পদ্ধতির অসংগতি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে বহু পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকেই অভিযোগ উঠছে যে, পুনর্মূল্যায়নের পরেও অনেক উত্তরের মূল্যায়ন করা হয়নি অথবা মূল্যায়নের চিহ্নের সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বরের কোনো সামঞ্জস্য নেই। যদিও সিবিএসই তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত ও যথাযথ বলে দাবি করে আসছে, তবে এই বিতর্ক প্রমাণ করছে যে, নতুন পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর অবিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে। বোর্ডের এই কার্যক্রম এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও জবাবদিহির দাবি জোরালো করে তুলেছে।