সিএ-র চাকরি ছেড়ে চারবার ব্যর্থতার গ্লানি জয় করে ইউপিএসসিতে সফল সাক্ষী জৈন

চাকরি জীবনের স্থিতিশীলতা ত্যাগ করে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করেছেন সাক্ষী জৈন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২০ সালে কোভিডের প্রকোপের সময় তিনি পেশা ছেড়ে ভারতের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মনোনিবেশ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের নিরলস সাধনা ও ধৈর্যশীল সংগ্রামের পর, পরিশেষে ভারত জুড়ে ৩৭তম স্থান অধিকার করে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

সাক্ষীর এই সাফল্যের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে ব্যর্থ হলেও তিনি মনোবল হারাননি। বরং পরবর্তী তিন বছর টানা ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রিলিমিনারি ও মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্টারভিউ বা ব্যক্তিত্ব যাচাই পর্বে পৌঁছালেও, অল্প কিছু নম্বরের ব্যবধানে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান করে নিতে ব্যর্থ হন। বারবার শেষ ধাপে এসে হোঁচট খাওয়া যে কোনো প্রার্থীর জন্যই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি, তবে সাক্ষী দৃঢ় সংকল্পের সাথে পুনরায় লড়াইয়ে নেমেছিলেন।

তাঁর এই সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিল কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও সুপরিকল্পিত জীবনযাত্রা। তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগেই পরের দিনের পড়াশোনার একটি পূর্ণাঙ্গ রুটিন তৈরি করে রাখতেন, যাতে সিলেবাসের নির্দিষ্ট অংশ সময়মতো শেষ করা যায়। গড়ে প্রতিদিন দশ ঘণ্টা পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পড়াশোনার চাপে সৃষ্ট মানসিক ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত বাগান করা ও হাঁটার মতো সৃজনশীল কাজের ওপর জোর দিতেন, যা তাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করেছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সাফল্যে পরিবারের সদস্যরা রাজস্থানি ঐতিহ্য মেনে তাকে সাফা বা বিশেষ পাগড়ি পরিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। সাফল্যের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় সাক্ষী জৈন প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে যে কেউ নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। তাঁর এই বিজয়গাথা বর্তমানে ভারতের অসংখ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%