Advertisement

তীব্র দাবদাহে নাজেহাল দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা মৌসুম পরিবর্তনের জোরালো দাবি জানালেন

দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন কেপিএফএ তীব্র দাবদাহ থেকে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কে লিগের প্রচলিত সূচি পরিবর্তনের জোরালো দাবি তুলেছে। আগস্ট মাসে দেশটিতে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙা উত্তাপের কারণে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মৌসুমের সময়সীমা শরৎ থেকে বসন্তকালীন সূচিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তন এশিয়ায় লিগটির নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং বিশ্ব ফুটবলে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে খেলোয়াড়দের এই সংগঠন।

চলতি বছরের ২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা গত কয়েক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই অসহনীয় গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোরিয়ান বেসবল লিগ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে হয়েছিল। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির প্রীতি ম্যাচের দর্শক সমাগমেও তীব্র গরমের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। সিউলে একটানা ১৭টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রাত অতিবাহিত হয়েছে, যেখানে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কে লিগ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এই সূচি পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। খেলোয়াড়দের সংগঠনটি চাইছে, এশিয়ার প্রাচীনতম এই পেশাদার লিগ যেন জাপানের জে লিগ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের মতো শরৎ-বসন্ত সূচিতে ফিরে আসে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তীব্র শীতকাল এবং তুষারপাত এই পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

খেলোয়াড়দের সংগঠনের সভাপতি এবং সাবেক দক্ষিণ কোরিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলার লি কুন-হো পরামর্শ দিয়েছেন যে, শীতের চরম মাসগুলোতে লিগ বিরতি দিয়ে এই সূচি সমন্বয় করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, গ্রীষ্মের জ্বলন্ত রোদে একাধিক টুর্নামেন্ট খেলার চেয়ে শীতকালীন বিরতি খেলোয়াড়দের চোটমুক্ত থাকতে এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়াও স্টেডিয়ামে হিটিং ডিভাইসের ব্যবস্থা এবং উন্নত হাইব্রিড ঘাস স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরুরি জরিপে দেখা গেছে, ৫৩৬ জন পেশাদার ফুটবলারের মধ্যে ৮৬.২ শতাংশই প্রচণ্ড গরমে শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, ৬৪.৭ শতাংশ খেলোয়াড় তীব্র গরমে মাথা ঘোরা এবং ৫৬.৬ শতাংশ পানিশূন্যতার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া ৪১ শতাংশ খেলোয়াড় স্বীকার করেছেন যে বর্তমান নীতিমালায় খেলোয়াড়দের সুরক্ষা পর্যাপ্ত নয়। এর মধ্যেই জাপানে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ফিজির এক রাগবি খেলোয়াড় সাইমোনি ভুনিলগির হিটস্ট্রোকজনিত মৃত্যু বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কিত- খবর
0%
0%
0%
0%