কলম্বোয় ভারতের বাধা হয়ে দাঁড়ালেন দিনুশা গিলের কৌশলী লড়াই বৃথা শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধে ড্র টেস্ট

কলম্বোর টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলকে দেখা গেছে গভীর চিন্তায়। পিচের প্রতিটি ধুলিকণায় তিনি খুঁজছিলেন জয়সূচক কোনো সংকেতের উত্তর। মাত্র ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ ভাঙাই ছিল তখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য। তবে ড্রিংকস ব্রেক চলাকালীন গিলের অস্থিরতা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছিল, মাঠের পরিস্থিতি কতটা জটিল। গাল টেস্টের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে লঙ্কান ব্যাটাররা এদিনও ভারতীয় বোলারদের সামনে দীর্ঘ সময় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গলের পিচ যেখানে সোজাসাপ্টা ছিল, কলম্বোর পরিস্থিতি ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ভারতকে এখানে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান তাড়া করার কঠিন সমীকরণ মেলাতে হতো, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল বৃষ্টির শঙ্কা। একদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানো জরুরি ছিল, অন্যদিকে রান বেড়ে গেলে জয়ের পথও কঠিন হয়ে পড়ার ভয় ছিল গিলের মনে। এমন অনিশ্চিত সকালে সোনাল দিনুশা ব্যাট হাতে যেন নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন।
দিনের শুরুতে গিল তার সমস্ত কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন। স্পিনারদের ছোট স্পেলে বল করানো এবং পেসারদের শর্ট বলের জালে লঙ্কানদের আটকে রাখার চেষ্টা চলছিল। শর্ট লেগ আর লেগ গালিতে ফিল্ডার বসিয়ে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেও সেভাবে সাফল্য আসছিল না। দিনুশা এবং কেশারা নুয়ানথা সকালের সেশনে ১০০ রান যোগ করে দলের আশা টিকিয়ে রাখেন। ড্রেসিংরুমের বারান্দা থেকে আসা করতালির শব্দে তখন তাদের লড়াইয়ের দৃঢ়তা ফুটে উঠছিল।
দুপুরের খাবারের বিরতির পর মানব সুথারের হাত ধরে প্রথম সাফল্য পায় ভারত, যখন নুয়ানথা ধ্রুব জুরেলের হাতে ধরা পড়েন। এরপর শুরু হয় ভারত ও দিনুশার মধ্যকার বুদ্ধিদীপ্ত দাবার লড়াই। লঙ্কান অষ্টম ব্যাটার প্রভাত জয়াসুরিয়াকে চাপে ফেলতে গিল ফিল্ডিংয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন, এমনকি মোহাম্মদ সিরাজকে দিয়ে বেল পরিবর্তনের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন পথও বেছে নিতে দেখা যায়। তবে জয়াসুরিয়া এবং লাহিরু কুমারার দৃঢ়তা এবং ভাগ্য সহায় হওয়ায় ভারতীয় বোলারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কুমারার ৯০ বলের ধৈর্যশীল ইনিংস এবং দিনুশার সাবলীল সুইপ শট ভারতের জয়ের সম্ভাবনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
দিন শেষে হতাশ গিল স্বীকার করেন যে, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও তার মনে সংশয় জেগেছিল। ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কি না, তা নিয়েও তিনি ভেবেছেন। ব্যক্তিগতভাবে জাসপ্রিত বুমরাহ বা ছন্দে থাকা সিরাজের অভাব এদিন প্রকটভাবে অনুভূত হয়েছে। তবে দিনশেষে গিল অকপটে স্বীকার করেছেন, কলম্বোর এই ড্র বা কঠিন পরিস্থিতির মূলে ছিল প্রতিপক্ষের এক ব্যাটারের অসাধারণ লড়াই, যার সামনে মাথা নত করা ছাড়া উপায় ছিল না। সব চেষ্টা করেও জয় অধরা থাকায় ভারত দলের জন্য এই দিনটি ছিল এক বড় পরীক্ষার নামান্তর।
