বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই জমজমাট সমীকরণ ও পরিসংখ্যানের বেড়াজালে সব দলের ভাগ্য

কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসরের তৃতীয় ধাপের লড়াই জমে ওঠার মুহূর্তে এই সিরিজের ফলাফল পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো গত আসরের ফাইনালে যথাক্রমে ৬৯.৪৪ শতাংশ এবং ৬৭.৫৪ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল, আর ২০২৩ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত জায়গা করে নিয়েছিল ৬৬.৬৭ এবং ৫৮.৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করা অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পয়েন্ট শতাংশ ৮০। দশ ম্যাচে আট জয় ও দুই পরাজয়ের বিপরীতে ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হোঁচট খাওয়া সত্ত্বেও তারা দারুণ অবস্থানে রয়েছে। তাদের হাতে এখনো ১২টি টেস্ট বাকি, যার মধ্যে আটটিই অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মাটিতে। পরিসংখ্যান বলছে, ছয় জয় ও এক ড্র করলে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৬৫ ছাড়িয়ে যাবে, আর সাত জয় ও এক ড্র করলে তারা ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, যা তাদের ফাইনালের দৌড়ে প্রায় নিশ্চিত করে রাখবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের এশিয়ার বাইরের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি সিরিজ বাকি রেখে তারা তাদের চার টেস্টের তিনটিতেই জয় পেয়েছে। তাদের হাতে থাকা দশটি টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে, তবে এই আটটির ছয়টিই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যারা সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভালো পারফর্ম করেছে। ছয় জয় ও এক ড্র তাদের ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্টে নিয়ে যাবে এবং সাতটি জয় তাদের ৭০ শতাংশের ওপরে পৌঁছে দিতে পারে, যা আগামী জুন মাসে ওভালের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
নিউজিল্যান্ড বর্তমানে ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ঘরের মাঠে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেহেতু গত ১৫ বছরে এই দেশ দুটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো সিরিজ জিততে পারেনি। কিউইরা যদি তাদের অবশিষ্ট দশটি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭০.৮৩-এ গিয়ে ঠেকবে।
বাংলাদেশ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চার আসরের মধ্যে এবারই নিজেদের সেরা ফর্মে রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারত, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে পেছনে ফেলে তালিকার চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। তাদের বাকি থাকা ছয়টি টেস্টের চারটিই ঘরের মাঠে এবং এশিয়ার বাইরের দলের বিপক্ষে, যা তাদের জন্য ফাইনালের স্বপ্ন দেখার বড় সুযোগ। বাংলাদেশ যদি চারটি জয় এবং দুটি ড্র করতে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭-এ পৌঁছাবে।
কলম্বোতে ড্র করার ফলে ভারত শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ২৪ পয়েন্টের পরিবর্তে পেয়েছে মাত্র ১৬ পয়েন্ট, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে বেশ চাপে ফেলেছে। বর্তমানে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারত যদি তাদের বাকি থাকা সাতটি টেস্টের সবকটিতে জয় পায়, তবে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭০.৩৭ হবে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ০-২ ব্যবধানে হেরেও যদি অস্ট্রেলিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারাতে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৫৯.২৬-এ দাঁড়াবে, সেক্ষেত্রে তাদের অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে।
শ্রীলঙ্কার জন্য এই ড্র কিছুটা স্বস্তি দিলেও পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান এখনো বেশ নাজুক। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে তারা মাত্র চার পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে। তাদের বাকি থাকা ছয়টি টেস্টের সবকটিতে জয় পেলেও পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭-এর বেশি হবে না, যা তাদের ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য দলগুলোর ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
