Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে প্রশাসনিক অস্থিরতার শঙ্কা বোর্ডের ক্ষমতার লড়াইয়ে কোণঠাসা প্রাদেশিক কর্তারা

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিশৃঙ্খলার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে বলে ভাবার অবকাশ নেই। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) ১৫টি প্রাদেশিক অঙ্গসংগঠনের সভাপতিদের পক্ষ থেকে বোর্ডে স্বাধীন পরিচালকদের সংখ্যা কমিয়ে আনার জোরালো দাবি উঠেছে। বর্তমানে সিএসএ’র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ডের ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জন স্বাধীন এবং ৫ জন অ-স্বাধীন বা প্রাদেশিক প্রতিনিধি। বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও হতে হয় একজন স্বাধীন পরিচালক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাদেশিক সভাপতিদের একাংশ মনে করেন বোর্ডে তাদের আধিপত্য থাকা উচিত। এমন কিছু সভাপতি রয়েছেন যারা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির পূর্ববর্তী সময়ের মতো একটি ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে কোনো স্বাধীন পরিচালকের অস্তিত্ব ছিল না। বোর্ডের এই স্বাধীন কাঠামো পরিবর্তন করলে তা কেবল স্পন্সরদের উদ্বিগ্ন করবে না, বরং সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও চরম অস্বস্তি তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইনসাইডারের মতে, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভয়েই প্রাদেশিক সভাপতিরা এমন অস্থিরতা তৈরি করছেন। বর্তমানে তারা এসএ২০ লিগের মতো সফল আসরের অংশ হতে পারছেন না এবং বেশ কয়েকটি প্রদেশ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় তারা নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক মনে করছেন। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তারা পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চান, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

গাউটেংয়ের বিদায়ী সভাপতি আর্ল গ্লেনিস্টর অবশ্য পুরনো ব্যবস্থায় ফেরার দাবি সরাসরি স্বীকার করেননি, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে এমন আলোচনার সূত্রপাত নতুন নয়। তিনি জানান, ২০২০ সালের মে মাসে তিনি মেম্বারস কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই এই ধারণাটি বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে সাউথ আফ্রিকান রাগবি ইউনিয়ন এবং সাউথ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উভয়ই অ-স্বাধীন পরিচালকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অথচ মাঠের পারফরম্যান্স ও কাঠামোগত বিচারে রাগবি ফুটবলের চেয়ে অনেক বেশি সফল। রাগবি চারবার বিশ্বকাপ জয় করলেও বাফানা বাফানা বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে চারবার অংশ নিয়ে কেবল একবারই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

আর্থিক পরিস্থিতির চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫টি প্রাদেশিক এফিলিয়েটের মধ্যে কেবল নর্দার্নস, গাউটেং এবং কোয়াজুলু-নাটাল আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। বাকি ১২টি প্রদেশ সিএসএ’র আর্থিক সহায়তায় টিকে আছে। প্রাদেশিক সভাপতিরা মনে করেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাদের আরও বেশি মতামত থাকা প্রয়োজন। যদিও বাস্তবে অধিকাংশ প্রদেশের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য তারাই দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিকেট দুনিয়া এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। প্রাদেশিক ক্রিকেট এখন আর পেশাদার নয় বরং উন্নয়নের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যার বাণিজ্যিক মূল্য নেই। অথচ এসএ২০ লিগ বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মতো আসরগুলো এখন প্রোটিয়া খেলোয়াড় তৈরির প্রধান মাধ্যম। ২০১৩ সালে আইপিএলের বোনাস নিয়ে ৫ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের কেলেঙ্কারির পর সিএসএ বোর্ডে স্বাধীন পরিচালকদের অন্তর্ভুক্তি শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের জুনে প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতার পর বর্তমান গঠনতন্ত্র কার্যকর করা হয়।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সিএসএ’র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে আপাতত বোর্ডে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য পুরুষ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বোর্ড স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়ে এই ক্ষমতা দখলের লড়াই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত- দক্ষিণ আফ্রিকা
0%
0%
0%
0%