ক্রিকেটের বরপুত্র ফাফ ডু প্লেসির বিদায়ঘণ্টা কি তবে বেজে উঠল জোহানেসবার্গ সুপার কিংসের অন্দরমহলে

ফাফ ডু প্লেসিকে ছাড়া ক্রিকেটকে কল্পনা করা আজকের দিনে অসম্ভব বললেই চলে। অথচ সেই অসম্ভবকেই কি এবার বাস্তব হতে দেখার পথে ক্রিকেট বিশ্ব? প্রায় তিন দশক ধরে বাইশগজ কাঁপানো এই মহাতারকাকে নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—ফাফের পরবর্তী ক্রিকেট জীবন কেমন হবে, নাকি সত্যিই তিনি বিদায়ঘণ্টা বাজাচ্ছেন? গত বুধবার এসএ২০ টুর্নামেন্টের রোস্টারে জোহানেসবার্গ সুপার কিংসের স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ৪৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে অনুপস্থিত থাকা ডু প্লেসির নাম তালিকায় না থাকাটা ভক্তদের জন্য রীতিমতো এক বিশাল ধাক্কা।
১৯৯৬ সালের ৯ ডিসেম্বর নর্দার্ন ট্রান্সভালের হয়ে ১৩ বছর অনূর্ধ্ব দলে ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে ডু প্লেসি খেলেছেন ১,০৯২টি ম্যাচ। দশটি দেশে ১৫টি দলের হয়ে খেলা এই ৪২ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে দেখলে এখনো মনে হয় তিনি যেন তার চেয়েও এক দশক তরুণ। যদিও শুরুর দিকে তিনি একজন সাধারণ লেগ স্পিনার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডেতে ৬০ রান করলেও, শুরুর দিনগুলোতে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছেন তিনি। কিন্তু আসল ফাফের রূপান্তর ঘটেছিল ২০১২ সালের নভেম্বরে অ্যাডিলেড টেস্টে। গ্যারেম স্মিথের বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় বুট হারিয়ে ফেলা সেই তরুণ যে ৮ ঘণ্টা ক্রিজে টিকে থেকে অপরাজিত ১১০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলবেন, তা কে জানত! সেই ম্যাচই তাকে ‘ম্যাজিক ড্রাগন’ তকমা এনে দেয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ জেতানোর মূল কারিগর করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে চক্ষুশূল হয়ে ওঠা কিংবা ২০১৬ সালের সেই আলোচিত ‘মিন্টগেট’ বিতর্ক—ফাফ ডু প্লেসির ক্যারিয়ার বরাবরই ঘটনাবহুল। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩৬টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করা এই ব্যাটার ব্যাট হাতে যেমন দক্ষ ছিলেন, তেমনি ছিলেন মেধাবী ও তুখোড় বক্তা। ২০১৯ বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা বা ডি ভিলিয়ার্সের অবসর ভেঙে ফেরার বিতর্ক—সবখানেই ফাফ ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। তার সংবাদ সম্মেলনগুলো সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের জন্য ছিল এক অপার বিস্ময়ের জায়গা।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন নেই ফাফ? হয়তো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে কোনো সমীকরণ মেলেনি, অথবা পিএসএল-এর মতো টুর্নামেন্ট বেছে নেওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের ভ্রমণে ক্লান্তিই তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ। বয়স এবং নতুন প্রজন্মের উত্থানে ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি হয়তো এবার সত্যিই পর্দার আড়ালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে একটি কথা নিশ্চিত, ডু প্লেসিবিহীন ক্রিকেট মাঠের সেই চিরচেনা হলুদ জার্সির দাপট ও সেই পরিচিত দাড়িযুক্ত হাসিমুখ ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করবে।
