ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পর ফিটনেস নিয়ে কঠোর গিল অস্থির ভারত শিবিরে

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। সিরিজজুড়ে একের পর এক খেলোয়াড়ের চোট ভারতের দলীয় ভারসাম্যকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, যা নিয়ে নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি এই তরুণ অধিনায়ক। সিরিজের তিন ম্যাচের মধ্যে দলের খেলোয়াড়দের সুস্থ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গিল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোর কথা মাথায় রেখে ফিটনেসের উন্নতি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
দলের চোটের তালিকা ছিল বেশ দীর্ঘ। সিরিজ শুরুর আগেই ফিটনেস সংকটে পড়ে ভারত। বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সময় কুঁচকির চোটে পড়েন হার্দিক পান্ডিয়া। তার বিকল্প হিসেবে ভাবা নীতীশ কুমার রেড্ডিও একই চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে যান। পাশাপাশি হর্ষিত রানা ও ওয়াশিংটন সুন্দর হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। লর্ডসে সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচের ঠিক আগে জসপ্রীত বুমরাহ বাদ পড়ায় বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। কার্ডিফে দ্বিতীয় ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া বুমরাহর অনুপস্থিতিতে ভারতীয় বোলাররা ইংলিশদের ৩৮৭ রানের পাহাড় ডিঙাতে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়।
গিল আক্ষেপের সুরে বলেন, সিরিজের প্রথম স্কোয়াডের অন্তত পাঁচজন ক্রিকেটার শেষ ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন। একটি বা দুটি ম্যাচের পরেই খেলোয়াড়দের ছোটখাটো চোটের কারণে বারবার কম্বিনেশন পরিবর্তন করতে হয়েছে। গিলের মতে, একজন খেলোয়াড় ৮০ শতাংশ ফিট থাকলে এবং ম্যাচ চলাকালীন সে মাঠ ছেড়ে চলে গেলে দলের পাঁচ বোলারের কৌশলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। সামনেই বিশ্বকাপ, যেখানে টানা ১১টি ম্যাচ খেলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ফিটনেস মান নিয়ে দলগতভাবে উন্নতির তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। ব্যক্তিগতভাবে গিল নিজেও সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮০ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন ক্র্যাম্পের কারণে।
চোট সমস্যার কারণে একাদশে জায়গা পাননি কুলদীপ যাদব। তবে লর্ডসের কন্ডিশন বিবেচনায় অতিরিক্ত পেসার খেলানোর কৌশলই ছিল দলের মূল পরিকল্পনা। গিলের ভাষ্যমতে, উইকেট ধীরগতির মনে হলেও মাঝের ওভারগুলোতে পেসারদের দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্য ছিল তাদের। সিরিজটি নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনায় গিল বলেন, অধিকাংশ সময় ভারত খেলার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। হারের পেছনে বড় কারণ হিসেবে নতুন বলে প্রচুর রান খরচ করাকে দায়ী করেছেন তিনি।
এদিকে লর্ডস টেস্টকে কেন্দ্র করে রোহিত শর্মার অবসর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন গিল। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আগেই এসব গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছিলেন, এবার গিলও নিশ্চিত করলেন যে রোহিতের পক্ষ থেকে অবসরের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। রোহিতের ব্যাট থেকে আসা ক্যারিয়ারের ৩৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করেন গিল। তিনি জানান, উইকেট হাতে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। গিলের বিশ্বাস, উপযুক্ত ফিটনেস এবং কন্ডিশন বুঝেই মাঠে নামলে আগামী দিনগুলোতে ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরবে।