বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় চেন্নাইয়ে মুখোমুখি মেলবোর্ন রেনেগেডস ও পার্থ স্কোরচার্স

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমকালো আসর বিগ ব্যাশ লিগ বা বিবিএল এবার পা রাখতে চলেছে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের মাটিতে। আগামী ১২ই ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ষোড়শ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্স। এই ঐতিহাসিক লড়াইটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শুরু হবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে না হয়ে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে আয়োজিত এই ম্যাচটি ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই সূচি ঘোষণা করা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অংশ হিসেবে ক্রিকেটকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে উভয় পক্ষ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালিস্টার ডবসন জানিয়েছেন, ভারতের বিশাল ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের কাছে এই লিগকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ম্যাচ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী চিপক স্টেডিয়াম নির্বাচনের পেছনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তথা বিসিসিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন ছিল। গত মে মাসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বিবিএলের একটি প্রতিনিধি দল চেন্নাই সফর করে ভেন্যুর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। মূলত আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচের ফাঁকে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মিতুন মানহাস এবং অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হেমাং আমিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ভেন্যু চূড়ান্ত করা হয়। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় অস্ট্রেলিয়া দল এই মাঠেই খেলেছিল, যা আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু হিসেবেও নির্ধারিত রয়েছে।
মেলবোর্ন রেনেগেডসের নতুন জেনারেল ম্যানেজার ম্যাক্স অ্যাবট জানিয়েছেন, ঘরের মাঠ মার্ভেল স্টেডিয়ামে ১৫ বছরের পথচলা শেষে তারা এবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজিকে মূল ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিবিএলের সবগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজিই এই ঐতিহাসিক ভারত সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, তবে রেনেগেডসের সূচির নমনীয়তা বিবেচনা করে তাদেরই স্বাগতিক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মার্ভেল স্টেডিয়ামের দীর্ঘ স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন এই যাত্রা রেনেগেডস সমর্থকদের জন্য নতুন উদ্দীপনা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ম্যাচটির ওপর ভিত্তি করে বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের নতুন মডেল তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। রেনেগেডস এবং স্কর্চার্স যদি বিনিয়োগের এই নতুন কাঠামোতে সম্মত হয়, তবে তা অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কাড়বে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।