টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর ডায়না এডুলজি

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের ভরাডুবি এবং সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ডায়ানা ইদুলজি। ভারতীয় নারী দলের বর্তমান অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর এবং প্রধান কোচ অমল মুজুমদারের ওপর দায় চাপিয়ে ইদুলজি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থে এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে। তাঁর মতে, দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বর্তমানে একটি ‘কমফোর্ট জোন’ বা স্বস্তির গণ্ডিতে আটকে পড়েছেন, যা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইদুলজি সরাসরি বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন অধিনায়ক খোঁজার সময় হয়েছে। হারমানপ্রীতের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সমর্থন থাকলেও ইদুলজির স্পষ্ট দাবি, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন নতুন চিন্তাভাবনা সম্পন্ন নেতৃত্বের প্রয়োজন। বোলিং পরিবর্তন কিংবা গেম প্ল্যানের ক্ষেত্রে হারমানপ্রীত স্থবির হয়ে পড়েছেন বলে মনে করেন এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে অমল মুজুমদারের কোচিংয়ে নতুনত্ব খুঁজে না পাওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন ইদুলজি।
এশিয়ান গেমসের জন্য হারমানপ্রীতকে আবারও অধিনায়ক হিসেবে বহাল রাখায় নির্বাচক কমিটির কড়া সমালোচনা করেছেন ইদুলজি। তিনি মনে করেন, এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল বড় কোনো পরিবর্তনের। পুরুষ দলের ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে নারী দলেও কেন একই ধারা বজায় থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইদুলজির ভাষায়, খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মানসিকতায় ফিরতে হবে। হারমানপ্রীতকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, নিরাপদ ক্রিকেট খেলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়, তাই হারের ভয় ঝেড়ে ফেলে মাঠে সর্বস্ব উজাড় করে দিতে হবে।
মাঠের পারফরম্যান্সে ফিল্ডিং কোচের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে ইদুলজি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে ভারতের ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক। টুর্নামেন্ট জুড়ে দলটি ১১টি ক্যাচ মিস করেছে, যা প্রতিযোগিতার তৃতীয় সর্বোচ্চ। ফিল্ডিংয়ে এ ধরনের উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ইয়স্তিকা ভাটিয়ার মতো খেলোয়াড়দের স্কোয়াডে রেখে সুযোগ নষ্ট করা এবং অকারণে জেমিমা রদ্রিগেজকে অবসরে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্তগুলোও তাঁর সমালোচনার বাইরে থাকেনি।
সবশেষে, ইদুলজি ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য আলাদা দল ও কোচিং স্টাফ গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, একই খেলোয়াড়দের দিয়ে সব ফরম্যাট খেলানোয় দলের ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিসিসিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বোর্ড সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু খেলোয়াড়দেরও এখন কঠোর পরিশ্রম ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে হবে। অলিম্পিক সামনে রেখে দল পুনর্গঠনই এখন ভারতের নারী ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এই সাবেক অধিনায়ক।