কিশোর তারকার সাফল্যে ভারতে কম বয়সে ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করার হিড়িক

শৈশব থেকেই ক্রিকেটের আলোয় নিজেদের সন্তানকে আলোকিত করার এক অভিনব প্রবণতা এখন পুরো ক্রীড়াঙ্গনে জোয়ার তুলেছে। টেনিস বল ও প্লাস্টিক ব্যাটের ছোঁয়া দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় বৈভব সূর্যবংশী কিংবা আয়ুষ মাত্রের মতো অপ্রতিরোধ্য কিশোর তারকারা এখন অভিভাবকদের প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রঙিন দুনিয়া এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আকাশছোঁয়া সাফল্য দেখে অভিভাবকরা তাদের দুই থেকে চার বছর বয়সী শিশুদেরও ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের আইপিএল ও বিভিন্ন ঘরোয়া লিগের রোমাঞ্চকর সাফল্য ক্রিকেটপ্রেমী সমাজে এক সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের জাল বুনেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কেবল শারীরিক কসরত বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সুদূর ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাডেমির দরজায় কড়া নাড়ছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে যেখানে এই পথ অর্থনৈতিক মুক্তি বা সামাজিক মর্যাদার সোপান, সেখানে উচ্চবিত্ত সমাজে এটি এক সুপরিকল্পিত উচ্চাভিলাষী ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম। আহমেদাবাদের ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী কালনা শুক্লার মতে, অনেক সময় অভিভাবকরা নিজেরাও সামাজিক প্রভাবে পড়ে এই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন।

কিশোর বিস্ময়দের আকাশচুম্বী সাফল্য এই চাহিদা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইপিএলে ১৭ বছর বয়সী আয়ুষ মাত্রের আলো ছড়ানো কিংবা বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য উত্থান আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। ভারতের নারী দলেও শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মন্ধানা, দীপ্তি শর্মা ও রিচা ঘোষের মতো তারকারা খুব কম বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। তবে কোচদের মতে, এই অতি-উৎসাহের কারণে শিশুদের ওপর চার বছর বয়স থেকেই বিরাট কোহলি, এম এস ধোনি বা শচীন টেন্ডুলকারের মতো পারফর্ম করার মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা অনেক সময় তাদের স্বাভাবিক আনন্দকে বাধাগ্রস্ত করে।

গবেষণায় বারবার এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশুদের কাছে খেলাধুলায় জেতার চেয়ে বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, আনন্দ করা এবং দলীয় সম্পৃক্ততা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদ কালনা শুক্লার মতে, শিশুদের খেলাধুলার শুরুটা হওয়া উচিত নিছক কৌতূহল এবং অনুকরণ থেকে। অভিভাবক ও কোচদের উচিত শিশুর নিজস্ব আগ্রহকে প্রাধান্য দেওয়া, যাতে ব্যাট-বলের এই লড়াই কেবল পদক জয়ের যন্ত্র না হয়ে বরং আনন্দময় এক ক্রীড়া অভিজ্ঞতা হিসেবে টিকে থাকে।

০%
০%
০%
০%