বিশ্বকাপে ব্যর্থতার গোলকধাঁধায় ভারত রণকৌশল বদলের তাগিদে অমল মুজুমদার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হতাশাজনক বিদায়ের পর কোচ আমোল মুজুমদার অকপটে স্বীকার করেছেন, দলের কৌশল নিয়ে পুনরায় ভাবার সময় এসেছে। তবে এই উপলব্ধি মাঠে ফলাফল নির্ধারণের কয়েক ঘণ্টা পর আসায় তা কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে। ইংল্যান্ড সফরের ১১টি ম্যাচ ও ওয়ার্ম-আপ শেষেও ভারত তাদের আদর্শ একাদশ বা সঠিক কৌশল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে। লর্ডসে রোববারের সেই ম্যাচে যখন জয়ের জন্য মরিয়া ছিল দল, ঠিক তখনই চাপের মুখে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে তারা, যা শেষ পর্যন্ত তাদের টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দেয়।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে ভারতের সম্ভবত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স, যদিও নিখুঁত ছিল না। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই ভেবে যে, বোলাররা ১৭০ রানের পুঁজি অনায়াসে ডিফেন্ড করতে পারবে। কিন্তু মুজুমদারের সেই হিসাব মেলেনি। অভিজ্ঞ ব্যাটিং ইউনিটের ওপর ভরসা না রেখে অনভিজ্ঞ বোলারদের ওপর পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা গ্রহণ ভারতের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

ম্যাচের এক পর্যায়ে জেমাইমাহ রদ্রিগেজের ধীরগতির ব্যাটিং দলের মোমেন্টাম নষ্ট করে। ১৯ বলে মাত্র ২১ রান করা জেমাইমাহকে বেশ দেরিতে রিটায়ার্ড আউট করা হয়, যার ফলে পাওয়ার হিটার রিচা ঘোষ ক্রিজে এসে মাত্র ১ বল খেলার সুযোগ পান। মুজুমদার স্বীকার করেছেন, জেমাইমাহর ওপর ভরসা করাটা ভুল ছিল, তবে সেই ভুল শুধরানোর সুযোগ ততক্ষণে ফুরিয়ে গেছে। বল হাতেও বোলাররা ছিলেন ছন্দহীন। রেনুকা ঠাকুর ছাড়া অন্য কোনো বোলারই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারেননি। এলিস পেরি ও অ্যাশ গার্ডনারদের অভিজ্ঞতার কাছে বারবার নতি স্বীকার করেছে ভারতীয় বোলিং আক্রমণ।

দলের এমন ভরাডুবির পর কোচ এবং অধিনায়ক উভয়ই ‘পুনরায় ভাবার’ কথা বলেছেন। তবে সেই চিন্তা কেবল ব্যাটিং বা বোলিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জায়গা থেকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের অনুপস্থিতি দলের বোলিংয়ে ঘাটতি তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতেও মাঠের পারফরম্যান্সে যে নড়বড়ে দশা দেখা গেছে, তা উদ্বেগের।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ডব্লিউপিএল-এর মতো টুর্নামেন্ট সত্ত্বেও নতুন ব্যাটাররা জায়গা করে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা দলের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন প্রশ্ন একটাই— এই ‘পুনরায় ভাবনা’ কি কেবল কথার কথা হয়েই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে কোনো আমূল পরিবর্তন আনবে? আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লর্ডসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক নারী টেস্ট, তার আগেই এই ক্ষত সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন মুজুমদার ও হারমানপ্রীতের সামনে।

0%
0%
0%
0%