সেমিফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকতে লর্ডসে বাংলাদেশের মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সমীকরণ এখন এক কঠিন গোলকধাঁধায়। পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেমন বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে হবে, তেমনি তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের দিকে। তবে নিছক জয়ই যথেষ্ট নয়, নেট রানরেটের মারপ্যাঁচে আটকা পড়া প্রোটিয়াদের লক্ষ্য থাকবে বড় ব্যবধানের জয়। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার নেট রানরেট ০.৭৩৪, যেখানে ভারতের নেট রানরেট ২.২৬৮। ফলে লর্ডসের মাঠে রবিবার জয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই লরা ওলভার্ডের দলের সামনে।
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলা অস্ট্রেলিয়া যদি ভারতের বিপক্ষে জয় তুলে নেয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেলেই শেষ চার নিশ্চিত করবে তারা। তবে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেলে ভারতের নেট রানরেট তাদের সেমিফাইনালে এগিয়ে দেবে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এক বড় দুঃসংবাদ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে তাজমিন ব্রিটস সংবাদ সম্মেলনে অকপটে স্বীকার করেছেন, প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রার্থনা করতে হবে তাদের।
লর্ডসের ঐতিহ্যের সামনে বাংলাদেশ দল নতুন হলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা এই মাঠের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কিছুটা পরিচিত। যদিও বর্তমান স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই এখানে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নন। সহকারী কোচ ক্লেয়ার টারব্লাঞ্চের স্মৃতিতে ২০০৮ সালের সেই ম্যাচ এখনো তরতাজা, যেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রোটিয়ারা অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে সেই তিক্ত অতীত ভুলে বর্তমানের লরা ওলভার্ডের দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মরিয়া। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশও কোনো ছাড় দিতে নারাজ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল নিজেদের শেষটা রাঙিয়ে দিতে প্রস্তুত।
লর্ডসের এই ম্যাচে বোলারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লড়াইটি বেশ হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার আভাস মিলছে। বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য একাদশে দেখা যেতে পারে জুয়ারিয়া ফেরদৌস, দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার, নিগার সুলতানা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার ও সানজিদা আক্তারকে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের জয়ী একাদশ অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, যেখানে থাকছেন লরা ওলভার্ড, তাজমিন ব্রিটস, অ্যানেবি ডার্কসেন, মারিজান ক্যাপ, নাদিন ডি ক্লার্ক, ক্লোয়ি ট্রিয়ন, ড্যান ফন নাইকার্ক, সিনালো জাফতা, শাবনিম ইসমাইল, আয়াবোঙ্গা খাকা ও ননকুলুলেকো এমলাবা।
পরিসংখ্যান বলছে, এর আগের পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা অতীতে দুইবার সেমিফাইনাল এবং দুইবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরাই থেকে গেছে তাদের। মুখোমুখি লড়াইয়েও প্রোটিয়ারা এগিয়ে, যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচেই জয়ী হয়েছে। তবে মাঠের খেলায় পুরনো ইতিহাস ছাপিয়ে নতুন দিনের নতুন সূর্যোদয় দেখার অপেক্ষায় নিগার সুলতানার দল। সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত বাঘিনীরা লর্ডসের মঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখতে উন্মুখ হয়ে আছে। এখন দেখার বিষয়, শ্বাসরুদ্ধকর এই সমীকরণে শেষ হাসি কার মুখে ফোটে।