সিডলের বিধ্বংসী বোলিং ও প্রেটোরিয়াসের ব্যাটে টেক্সাস সুপার কিংসকে উড়িয়ে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্ন্সের সহজ জয়

বয়সের ভার যে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, তা আবারও প্রমাণ করলেন পিটার সিডল। প্রবীণ এই পেসারের দুর্দান্ত বোলিং তোপ আর ম্যাথু শর্টের কার্যকরী অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে টেক্সাস সুপার কিংসকে অনায়াসে হারিয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস। এমএলসি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে তারা ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে টেক্সাস সুপার কিংস শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই সাইতেজা মুক্কামাল্লাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেন ৪১ বছর বয়সী সিডল। পরের ওভারেই ব্রডি কাউচ তুলে নেন গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফাফ ডু প্লেসিকে। পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই মিলিন্দ কুমার এবং অষ্টম ওভারে শুভম রঞ্জানে ফিরে গেলে টেক্সাসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৮ রান। রিল রুশো ও উইয়ান মুল্ডার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। দলীয় ৮৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে টেক্সাস যখন বড় লজ্জার মুখে, তখন হার্ডাস ভিলজোয়েনের লড়াই তাদের দেড়শ রানের কোটা পার করতে সাহায্য করে। ভিলজোয়েনের অপরাজিত ৩৩ এবং ডনোভান ফেরেরার ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে টেক্সাস সুপার কিংস ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করে। সিডল ৩৬ রানের বিনিময়ে নেন ৩টি উইকেট, আর শর্ট ২৫ রান দিয়ে শিকার করেন ২টি। এই ম্যাচেই এমএলসিতে অভিষেক হওয়া অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২ ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি।
১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস প্রথম ওভারেই ফিন অ্যালেনের উইকেট হারায়। তবে সেই ধাক্কা সামলে নিতে দেরি করেনি দলটি। লুয়ান-ড্রে প্রিফোরিয়াস ও অধিনায়ক ম্যাথু শর্ট শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান। পাওয়ার প্লে’তেই তারা ৬৫ রান তুলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পাওয়ার প্লে শেষেও রানের গতি বজায় রাখেন এই জুটি। নবম ওভারে শর্ট ১৯ বলে ৩১ রান করে আউট হলেও প্রিফোরিয়াস এক প্রান্ত আগলে রাখেন। মাত্র ৩২ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত প্রিফোরিয়াসের অপরাজিত ৬৯ এবং দলের বাকিদের ছোট ছোট অবদানে ১৭ ওভার ৫ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস। বল হাতে টেক্সাসের নান্দ্রে বার্গার ১টি উইকেট নিলেও তা দলের জয় আটকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। সব মিলিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর দাপুটে পারফরম্যান্সের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় টেক্সাস সুপার কিংসকে।