স্বর্ণা ও নাহিদার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

সাউদাম্পটনের রোজ বোলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ২৩ রানের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচটিতে নায়ক হয়েছেন নাহিদা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। বল হাতে নাহিদার বিধ্বংসী স্পেলের পাশাপাশি শেষদিকে স্বর্ণার হার না মানা ঝোড়ো ইনিংসই লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এই জয়ে তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, যা ২০১৪ সালের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো আসরে তাদের সেরা সাফল্য।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় ১৩ রানের মাথায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে টাইগ্রেসরা। ফাতিমা সানার তোপে দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার দ্রুত সাজঘরে ফিরলে বড় বিপদে পড়ে দল। পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২৩ রান। এরপর নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে দলীয় ৪৮ রানে সোবহানা আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ১২৩ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ হয়েছিল পাকিস্তানের। গুল ফিরোজা ও মুনিবা আলীর উদ্বোধনী জুটি পাওয়ারপ্লেতে দলকে ৪১ রান এনে দেয়। কিন্তু অষ্টম ওভারে নাহিদা আক্তার ফিরোজাকে ফেরাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। নাহিদা ও সানজিদা আক্তার মেঘলার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। নাহিদা ১৮ রানে ৩ উইকেট এবং সানজিদা ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলতে সক্ষম হয়। অধিনায়ক ফাতিমা সানার লড়াই ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২৩ রানের জয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। বল হাতে নাহিদা ও সানজিদার মিতব্যয়ী বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে দৃঢ়তা পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক আসরে দুটি জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১২৩/৬ (স্বর্ণা আক্তার ৩৯*, নিগার সুলতানা ৩৬; ফাতিমা সানা ২/১৮)। পাকিস্তান ২০ ওভারে ১০০/৮ (মুনিবা আলী ২৫, গুল ফিরোজা ২৩; নাহিদা আক্তার ৩/১৮, সানজিদা আক্তার মেঘলা ৩/২১)। বাংলাদেশ ২৩ রানে জয়ী।